১০ কোটি টাকা তোলার জন্য খাদ্য বিভাগে ঘুষ-দুর্নীতির হাট

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জামায়াতপন্থী কিন্তু পা থেকে মাথা পর্যন্ত দুর্নীতিবাজ খাদ্য সচিব জনাব মাসুদুল হাসান ৩০ নভেম্বর অবসরে যাবেন। কিন্তু খাদ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীক সিন্ডিকেট এ খাতে টাকা বিনিয়োগ করে তার জন্য ৬ মাসের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ব্যবস্থা করছে। ছয় মাসের চুক্তির জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের বিশেষ মহলকে ১০ কোটি টাকা দিতে হবে। এই ১০ কোটি টাকা তোলার জন্য খাদ্য বিভাগে ঘুষ-দুর্নীতির হাট বসানো হয়েছে। সিন্ডিকেটে রয়েছেন ডিজি হুমায়ুন কবীর, এডিজি জামাল হোসেন, পরিচালক তাজল ও সালাম, পিডি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, এফপিএমইউ এর ডিজি মাহবুব মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সোহেল, উপসচিব আরিফ, প্রটোকল অফিসার রব্বানি প্রমুখ। সচিব মাসুদুল হাসানের অবসরের সময় ঘনিয়ে আসায়, তিনি কোন কিছুতে রাখঢাক রাখছেন না। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর অনিয়ম-দুর্নীতি,অপকর্ম ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। কোন কিছুরই তোয়াক্কা করছেন না তিনি।
সূত্রগুলো বলছে, খাদ্য অধিদপ্তরের এই ঘুষের হাটের প্রতি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারেরও সরাসরি সমর্থন রয়েছে। কারণ, এ থেকে বড় অংকের ভাগটা তিনিও আদায় করে নিতে পারছেন। গত প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে উপদেষ্টা এবং সচিব উভয়েই যৌথ মিশনে লুটপাট চালিয়েছেন খাদ্য বিভাগে। ধান-চাল ক্রয়ে অনিয়ম, চাঁদাবাজি, বদলি-পদোন্নতি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ অনিয়ম ও নির্মাণ খাতে দুর্নীতির মাধ্যমে উপদেষ্টা এবং সচিব কয়েকশ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই এক বছরে। শীর্ষনিউজ ডটকম এবং সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
মডার্ন ফুড স্টোরেজ প্রজেক্টে ভয়াবহ দুর্নীতি-লুটপাট, পিপিআর লঙ্ঘন
অধিপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আয়ু শেষ হয়ে আসায় উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার যেমন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন, তারচেয়েও বেপরোয়া এখন সচিব মাসুদুল হাসান। এরফলে খাদ্য বিভাগে দুর্নীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সচিব মাসুদুল হাসানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য ১০ কোটি টাকা তহবিলের অর্ধেকই অর্থাৎ ৫ কোটি টাকার জোগানদার পিডি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনি প্রায় চার হাজার কোটি টাকার ‘আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ প্রকল্প (যা মডার্ন ফুড স্টোরেজ প্রজেক্ট নামে পরিচিত)’ এর প্রকল্প পরিচালক পদে আছেন। বিশ্বব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণে বৃহৎ এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন হচ্ছে, যদিও প্রকল্পটির গ্রহণযোগ্যতা এবং কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে খাদ্য কর্মকর্তাদের মধ্যেই। এই প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়ে আসছে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ও লুটেরা আমল থেকেই। যা এখন এই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর নির্মাণ কাজ এবং দেশ-বিদেশ মালামাল ক্রয়ে লাগামহীন এসব দুর্নীতিতে পিডি আসাদুজ্জামান আর ডিজি ফুড মো. আবুল হাছানাত হুমায়ূন কবীর সরাসরি জড়িত রয়েছেন। উপদেষ্টা এবং সচিব- দু’জনই এদের দুর্নীতি-অনিয়মে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছেন। কারণ, এর বড় ভাগটা পাচ্ছেন তারাই।
জানা যায়, এই প্রকল্পে গুরুতর অনিয়ম ও ব্যত্যয় করে মন্ত্রিপরিষদ কমিটির অনুমোদন ছাড়া আগেই ভ্যারিয়েশন বাস্তবায়ন করে ফেলা হয়। পিপিআর-এর কোন অনুশাসন না মেনে, প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ১০০%, আর আর্থিক অগ্রগতি ৯৮%, প্রকল্পটির শেষ হওয়ার মাত্র ২ মাস বাকী- তখন প্রকল্পের ভ্যারিয়েশন প্রস্তাব পাঠান পিডি আর ডিজি। সচিব প্রত্যয়ন করে ফাইলে অনুমোদন দিয়ে উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের কাছে ফাইল পাঠালে ভ্যারিয়েশন প্রস্তাব যথার্থ কী না তা যাচাই করার জন্য ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তদন্ত করে রিপোর্ট দেয়- মডার্ন ফুড স্টোরেজ প্রজেক্টের ৭ টি স্টিল সাইলোর মধ্যে খুলনার মহেশ্বরপাশায় গমের সাইলোর জন্য নির্ধারিত ৪৫৩ কোটি টাকার অতিরিক্ত কাজ করার জন্য কেবিনেট হতে ভ্যারিয়েশন প্রস্তাবে অনুমোদন না নিয়ে ৫০ কোটি টাকা মুল্যের কাজ করে ফেলেছে ডিজি ও পিডি- যা স্পষ্টতই সরকারি ক্রয় নীতি পরিপন্থি। উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার প্রথম দিকে অনুমোদন না দিলেও, এখন পিডি আসাদুজ্জামান সিন্ডিকেটের সদস্য পিও গোলাম রব্বানির মাধ্যমে নগদ অর্থ পরিশোধ করে উপদেষ্টার ভাই ফটিক মজুমদারকে ধরে উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করেছেন। তদন্ত কমিটি খুলনার মহেশ্বরপাশা প্রজেক্টের ভ্যারিয়েশন-এ মারাত্মক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে রিপোর্ট দিলেও পিডি ও ডিজি’র বিরুদ্ধে অদ্যাবধি কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরং এই সিন্ডিকেট (পিডি, ডিজি, সচিব, অতিরিক্ত সচিব জাকিয়া, যুগ্ম সচিব সোহেল, ইঞ্জিনিয়ার আবু বাকার, পরিচালক তাজল) উপদেষ্টার ভাই ফটিক মজুমদারকে ১০ কোটি টাকা দিয়ে উপদেষ্টাকে রাজি করিয়েছেন কেবিনেট কমিটিতে (সিসিজিপি) ভ্যারিয়েশন প্রস্তাব পাঠানোর জন্য। অতিরিক্ত সচিব জাকিয়া আফরোজ হাতে হাতে ফাইল নিয়ে উপদেষ্টার স্বাক্ষর নিয়েছেন। এর সাথে মডার্ন ফুড স্টোরেজ প্রজেক্টের চট্টগ্রাম ও আশুগঞ্জ সাইলোর ভ্যারিয়েশন প্রস্তাব সিসিজিপি-তে তোলার জন্য ফাইল তৈরি করছেন দুর্নীতিবাজ যুগ্মসচিব সোহেলুর রহমান আর অতিরিক্ত সচিব জাকিয়া আফরোজ। ইতিপূর্বে এই সোহেলুর রহমান খানকে দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে বদলি করে দেয়া হয়েছিল। তখন আলী ইমাম মজুমদার ও সচিব মাসুদুল হাসান এ মন্ত্রণালয়ে ছিলেন না। মাসুদুল হাসান এ মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে পদায়ন পাওয়ার পর ডিও দিয়ে তাকে আবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পোস্টিং করান এবং আবারো প্ল্যানিং উইং এ পদায়ন করেন। পিপিআর না মেনে ভ্যারিয়েশনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যয়, নির্মাণ কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও ঠিকাদারি কাজে ঘুষ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারচুপি এবং অযথা প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে দেখানোর মতো ঘটনা ঘটেছে মডার্ন ফুড স্টোরেজ প্রজেক্টে। এতে পিডি আসাদুজ্জামান, ডিজি ফুড আবুল হাসনাত হুমায়ুন কবীর, সচিব মাসুদুল হাসান, যুগ্ম সচিব সোহেলুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব জাকিয়া আফরোজ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। দুর্নীতির বরপুত্র উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার তদন্ত কমিটির রিপোর্টকে অগ্রাহ্য করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবে শেষ পর্যন্ত অনুমোদন দিয়েছেন।
অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সচিব আর ডিজিকে ৭ কোটি, উপদেষ্টার ভাই ফটিক মজুমদারকে ১০ কোটি টাকা আর যুগ্ম সচিব সোহেলকে ধানমন্ডিতে ফ্ল্যাট কেনার জন্য ৫৫ লাখ টাকা দিয়ে কেবিনেট হতে মডার্ন ফুড স্টোরেজ প্রজেক্টের বরিশাল আর নারায়ণগঞ্জ রাইস সাইলোর ভ্যারিয়েশন অনুমোদন করিয়ে নিয়েছেন ২২ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে। যা সম্পূর্ণই পিপিআর বহির্ভুত অনুমোদন। এখন এই সিন্ডিকেট জামায়াতী সচিব মাসুদুল হাসানকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য উপদেষ্টাকে রাজি করিয়েছেন, যদিও ইতিপুর্বে সচিব মাসুদের চুক্তির বিষয়ে রাজি ছিলেন না উপদেষ্টা। তিনি চাচ্ছিলেন নিজের পছন্দের বিশেষ এক কর্মকর্তাকে এ মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে আনতে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ জামায়াতের রোকন আর বাড়ি সাতক্ষীরা হওয়ায় তিনিও জামায়াতী সচিব মাসুদুল হাসানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন।
পদোন্নতি-পদায়নসহ বিভিন্ন ভয়াবহ অনিয়ম ও ঘুষের লেনদেন
সূত্রমতে, অধিদপ্তরের ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ পরিচালক, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট হিসেবে চিহ্নিত মো. জামাল হোসেনকে দেড় কোটি টাকার বিনিময়ে এডিজি (অতিরিক্ত মহাপরিচালক) এর চলতি দায়িত্ব প্রদান করেন দুর্নীতিবাজ সচিব মাসুদুল হাসান ও ডিজি। চলতি দায়িত্ব প্রদান বাবদ উপদেষ্টা আলী ইমাম মজমুদার আলাদাভাবে ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। চলতি দায়িত্ব কার্যকর হবে দুদকের রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) এই শর্ত দিয়ে জিও জারি করলে গোয়েন্দা প্রতিবেদন নেগেটিভ হওয়া সত্ত্বেও জামাল হোসেনের প্রস্তাব এসএসবিতে প্রেরণ করেছেন ঘুষখোর সচিব মাসুদুল হাসান ও উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। এ বাবদ তারা আরও দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন জামাল হোসেনের কাছ থেকে।
সূত্র জানায়, অসৎ ও দুর্নীতিবাজ সচিব মাসুদুল এবং ঘুষখোর, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ডিজি হুমায়ুন ৫০ লাখ টাকার বন্দোবস্তে অধিদপ্তরের চরম ঘুষখোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিকী-এর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য জনপ্রশাসনে ডিও পাঠিয়েছিলেন উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করে। নন-ক্যাডার অফিসার প্রকৌশলী মো. আবু বকরের চাকরি ডিসেম্বর ২০২৫ এ শেষ হবে, ওই পদের যোগ্য ফিডার পদধারী থাকলেও উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করে মো. আবু বকরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য ডিও দেয়া হয়েছিল। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠায় পরবর্তীতে উপদেষ্টা এই ডিও বাতিলের চিঠি দিতে বাধ্য হন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে।
মন্ত্রণালয়ের সকল অফিসার জানেন, এফপিএমইউ-এ কর্মরত মাহবুবুর রহমানের দক্ষতা ও সক্ষমতা সম্পর্কে। দুর্নীতিবাজ উপদেষ্টা ও সচিব নগদ টাকার বিনিময়ে অথর্ব ও অযোগ্য মাহবুবকে এফপিএমইউ এর ডিজি’র পদে বসার ব্যবস্থা করেছেন। সিভিল সার্ভিসের ক্যাডারভুক্ত গ্রেড-২ পর্যায়ের অতিরিক্ত সচিবরা এফপিএমইউ-এর ডিজি পদে পদায়ন পেতেন। একজন অতিরিক্ত সচিব এখানকার ডিজি হিসেবে পদায়ন পেলেও যোগদান করতে পারেননি সচিব মাসুদুল হাসানের কারণে। পরবর্তীতে জনপ্রশাসন সচিবকে দিয়ে অযোগ্য মাহবুবকে এফপিএমইউ-এর ডিজি পদে বসার ব্যবস্থা করেন খাদ্য সচিব। মাহবুবের জন্য অবৈধভাবে গাড়ির ব্যবস্থাও করেছেন সচিব। শুধু তাই নয়, নগদ টাকার বিনিময়ে মিজানুর রহমান (‘মিজান’ চামচা বলে পরিচিত) আরেকজন এফপিএমইউ সহযোগী গবেষণা পরিচালককে জ্যেষ্ঠতা লংঘন করে ‘পরিচালক’ পদে পদোন্নতির জন্য ডিপিসি সভা আহবান করা হয়েছে। ডিপিসি-তে জনপ্রশাসন ও অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি জ্যেষ্ঠতা লংঘন করে মিজানকে পদোন্নতি প্রদানে রাজি হননি। মিজানকে পদোন্নতি দেয়ার জন্য পদ খালি না থাকায়, এখন এফপিএমইউ-এর সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত ‘উপসচিব’ পদটি বিলুপ্ত করে পরিচালক পদ সৃষ্টি করার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পত্র দিয়েছেন ঘুষখোর সচিব।
এদিকে কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে উপদেষ্টা ২ কোটি, সচিব ১ কোটি, ডিজি ৫০ লক্ষ আর পরিচালক তাজল ৩০ লক্ষ টাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সরকারি কার্নেল ফ্যাক্টরি বেসরকারি খাতে ৫০ বছরের জন্য লিজ দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উল্লেখ্য, মো. মাসুদুল হাসান খাদ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ পান ২ অক্টোবর, ২০২৪। এর প্রায় এক মাস পরে ১০ নভেম্বর উপদেষ্টা হয়ে আসেন আলী ইমাম মজুমদার। শুরু থেকেই এরা উভয়ে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে আখের গুছিয়ে নেওয়ার মিশনে নামেন। গত প্রায় এই এক বছরের বেশি সময় ধরে মাঠ পর্যায়ে চাঁদাবাজি ও বদলি-পদায়নে অনিয়মসহ প্রতিটি খাতে এরা যা করেছেন তাতে অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ধান ক্রয়ে ভয়াবহ অনিয়মের কারণে (শীর্ষ নিউজ ও শীর্ষকাগজে সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ ইতিপূর্বে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে) সাধারণ মানুষকে পঁচা চাল খেতে হয়েছে এবং হচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরে এ নিয়ে নানা ঘটনাও ঘটেছে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল থেকে এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় উপদেষ্টা-সচিব সিন্ডিকেটের দুর্নীতির মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে।
সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে প্রতিবেদনে ইতিমধ্যে অধিদপ্তর এবং মন্ত্রণালয়ের যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাইরের দুই ব্যক্তি। এরা হলেন উপদেষ্টার ভাই ফটিক মজুমদার এবং অধিদপ্তরের সাবেক দুর্নীতিবাজ পরিচালক এলাহী দাদ খান (অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে খাদ্য সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগের এক দিনের মাথায় বাতিল হওয়া কর্মকর্তা)। এরা দু’জন উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের ডান হাত এবং বাম হাত। উপদেষ্টার ছেলে টিপুও এসব অপকর্মে ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু টিপুকে নিয়ে কেলেঙ্কারি কাণ্ড বেধে যাওয়ায় তিনি আপাততঃ ব্যাকফুটে চলে গেছেন।
সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news
* অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইত্তেহাদ নিউজে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায় ।



