লিফট বন্ধ করে টাকা দাবি,সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে গিয়ে গর্ভপাত

ইত্তেহাদ নিউজ,ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ নগরীর হেলথ কেয়ার প্রাইভেট হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা রোগীকে লিফট বন্ধ করে টাকা দাবি করে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে গিয়ে গর্ভপাতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হলে হাসপাতালের মালিক-ম্যানেজারসহ ৩ জনকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। তীব্র সমালোচনার মুখে গতকাল দুপুরে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর নাম রোজিনা আক্তার। তিনি ময়মনসিংহ নগরীর ২নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক লুৎফর হোসেনের স্ত্রী। গতকাল দুপুরে অভিযান চালিয়ে হাসপাতালের মালিকানা অংশিদার রঞ্জন দে, মো. পাপ্পু এবং ম্যানেজার মো. মজিবুর রহমানকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, গত ২রা আগস্ট গর্ভবর্তী রোগীকে জামালপুর হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। কিন্তু রোগী ময়মনসিংহ আসলে মো. হান্নান নামের এক দালাল তাদেরকে ফুসলিয়ে ওই হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে ডাক্তার না থাকায় রোগী প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করে বেরিয়ে যেতে চায়। এ সময় হাসপাতালের মালিক তাকে আটকাতে লিফট বন্ধ করে দেয়। রোগী সিঁড়ি বেয়ে নামতে গেলে পড়ে যায়। এতে গর্ভবর্তী নারী জরায়ুতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারাত্মক রক্তক্ষরণ হয়। পরবর্তীতে গর্ভের শিশুটি মারা যায়। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমরা ৩ জনকে আটক করেছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে হাসপাতালের আয়া সুইটি আক্তার বলেন, রোগীর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে রোগীর স্বজনরা লিফট বন্ধ থাকার কারণে ২ তলা থেকে রোগীকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নিয়ে বেরিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর স্বামী লুৎফর হোসেনকে ফোন দিলে ব্যস্ততা দেখিয়ে সংযোগ কেটে দেন। যোগাযোগ করেও হাসপাতালটির মালিকপক্ষের কারও বক্তব্য জানা যায়নি। এমনকি সরজমিন হাসপাতালে গিয়েও দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের লাইসেন্স পাওয়া গেলেও অনেক ত্রুটি রয়েছে। অনেকদিন ধরে এই হাসপাতালটি নিয়মবহির্ভূত ভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। এ ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ দিনের মাঝে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত হেলথ কেয়ার প্রাইভেট হাসপাতাল বন্ধ রাখার জন্য নিদের্শ দেয়া হয়েছে।
সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news
* অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইত্তেহাদ নিউজে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায় ।



