বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা,পালালেন সেনা হেলিকপ্টারে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নেপালেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করছেন। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি পদত্যাগ করেন। এর আগে নেপালে তরুণদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় দু’দিনেই ঘটেছে বহু হতাহতের ঘটনা।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িঘরে হামলা চালাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। ঘটেছে অগ্নি সংযোগের ঘটনাও।
পদত্যাগ করে ওলিও পালালেন সেনা হেলিকপ্টারে
জেন-জি’র আন্দোলনে কমপক্ষে ২৫ জনকে হত্যার পর অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, তিনি কাঠমান্ডুতে একটি হেলিকপ্টারে উঠছেন। এর গন্তব্য কোথায় তা পরিষ্কার নয়। তারও আগে কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। তারা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্টের বাসভবন, মন্ত্রী-এমপিদের বাসভবনে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠা জনতা আগুন ধরিয়ে দিয়ে পুরো নেপাল যেন আগুনে জ্বলছে এমন এক আবহ তৈরি হয়। সঙ্গে পার্লামেন্ট ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে আগুনের শিখা। এসব দেখেই কেউ কেউ বলতে থাকেন, ওলির সামনে কোনো বিকল্প নেই। তাকে পদত্যাগ করতেই হবে। তিনি অবশেষে তা-ই করলেন।
তবে অনেক দেরি করে ফেলেছেন। তার চেয়ে বড় বিষয় হলো পদত্যাগ করার পর তিনি এখন কোথায়? জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন। অবশ্য দেশের ভিতর তার জন্য অবস্থান করা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। তার বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। দৃশ্যত, নিজ দলের নেতারাও এখন সুযোগ বুঝে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে তিনি দেশে কার আশ্রয়ে থাকবেন! যদি দেশ ছেড়েই যান, তাহলে কোথায় আশ্রয় চাইতে পারেন- এমন অনেক প্রশ্ন এখন। এ মুহূর্তে এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব না।

প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র
দুর্নীতি ও সামাজিক মাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। দেশটির প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন তিনি, যা গ্রহণ করা হয়েছে।
পদত্যাগপত্রে অলি লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রেসিডেন্ট, নেপালের সংবিধানের ৭৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর, দেশের বর্তমানে বিরাজমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সংবিধান অনুসারে সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান এবং সমাধানের দিকে আরও পদক্ষেপ নেয়ার জন্য, সংবিধানের ৭৭ (১) (ক) অনুচ্ছেদ অনুসারে, আজ (মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর) থেকে আমি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’
আজ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে নেপাল। কারফিউ উপেক্ষা করেই দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলে আন্দোলন। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটে।
এছাড়া পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে সেখানে বিক্ষোভকারীরা আগুন দিয়েছেন বলেও খবর পাওয়া যায়। পরে বন্ধ করে দেয়া হয় বিমান চলাচলও।এমন পরিস্থিতিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানান স্থানীয় নেতারা এবং দেশটির সেনাপ্রধান। তারই ধারাবাহিকতায় কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেন।
এদিকে, দেশব্যাপী বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করায় নেপালি সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ভাইসেপতির বাসভবন থেকে মন্ত্রীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট। মন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনার পর এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে নেপালে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেয়া হয়।সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হলেও, একপর্যায়ে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে পার্লামেন্টের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে শুরু হয় সংঘাত। এসময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঠমান্ডুতে কারফিউ জারি করে প্রশাসন। এই আন্দোলনকে ‘জেন-জি রেভল্যুশন’ নাম দেন বিক্ষোভকারীরা।
দেশটিতে দু’দিনের সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ১৯ জন। আহত হয়েছেন অনেকে। হতাহতের দায় নিয়ে আগেই পদত্যাগ করেন নেপালের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী। আর অবশেষে চাপের মুখে পদত্যাগ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রীও।
সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news
* অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইত্তেহাদ নিউজে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায় ।



