অনুসন্ধানী সংবাদ

গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর খানের অবৈধ সম্পদের পাহাড়

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর খান
১২২
print news

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আলমগীর খানকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিভিন্ন অবৈধ সম্পদ ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। সূত্রের দাবি, তার নামে রয়েছে ঢাকার ধানমন্ডি ও উত্তরায় দুটি বাড়ি, একাধিক ফ্ল্যাট এবং রাজবাড়ীতে ৮ তলা একটি ভবন, যা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সূত্রে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, এই সম্পদগুলো অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত।
স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্র জানায়, এই সম্পদের বৈধতা এবং উৎস নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যদিও আলমগীর খান ঢাকা জোনে দায়িত্বে ছিলেন, তবু তার সম্পদের পরিমাণ ও প্রকৃতি নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। সূত্রের মতে, সম্পদের এই পরিমাণ এবং প্রকৃতি এমনকি তার সরকারি বেতন ও সুযোগ-সুবিধার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অভিযোগগুলোতে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, তার প্রশাসনিক পদে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন প্রকল্পের তদারকি ও অর্থ ব্যবহার যথাযথভাবে হয়নি। সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধের ঘটনা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ-৬ মাত্র দুই দিনের মধ্যে তিনটি কার্যাদেশ দিয়ে ঠিকাদারকে ১ কোটি ১৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করে। অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, এই দ্রুত কার্যাদেশ দেওয়ার ফলে যথাযথ তদারকি করা হয়নি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব লক্ষ্য করা গেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ই/এম বিভাগ-৬-এর জন্য ৩টি ১৬ চ্যানেল ডিডিআর, ১২টি পিটিডোর ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, ৩টি ডিসপ্লে মনিটর, ১০টি ডে-নাইট ভিশন ক্যামেরাসহ অন্যান্য মালামাল ঠিকাদারের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছিল। অডিট রিপোর্টে বলা হয়েছে, সরবরাহ ও স্থাপনের সময়সূচি এবং কার্যাদেশ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
ই/এম বিভাগ-৮-এ গাড়ি চালকদের বেতন বাবদ অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। দুটি গাড়ির বিপরীতে ৩১ জন চালকের পেছনে বছরে ৮৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। এই বিষয়ে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে যে, অর্থের ব্যবহার এবং প্রশাসনিক তদারকি যথাযথ ছিল কি না।
২০১৬-১৭ সালের অডিট রিপোর্টে এসব অনিয়ম উল্লেখ থাকলেও, সেসময় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, যা প্রশাসনিক ত্রুটি ও দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। বিভিন্ন সূত্র জানায়, এই সময় কর্তৃপক্ষের ধীরগতি অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় ঠিকাদারদের বক্তব্য অনুযায়ী, “কার্যাদেশ দ্রুত দেওয়ার ফলে আমরা পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই করতে পারিনি। এটি প্রশাসনিক ত্রুটি এবং অনিয়মের সুযোগ তৈরি করেছে।” এ ধরনের অভ্যন্তরীণ তদারকি এবং তদারকি ব্যবস্থার অভাবে অর্থের অপচয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব লক্ষ্য করা গেছে।
অফিস সূত্র জানায়, “যদিও অডিট রিপোর্টে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ রয়েছে, তথাপি বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে অনিয়মের প্রমাণগুলো অনিয়মের সুযোগ তৈরি করেছে।”
অবৈধ সম্পদ ও অনিয়মের অভিযোগগুলোর পাশাপাশি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এবং জনবল থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়ও প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের অনিয়ম জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, “ওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে আলমগীর খানের প্রভাব থাকার কারণে প্রশাসনিক তদারকি দুর্বল ছিল। এই প্রভাবের কারণে অনিয়মের বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান হয়নি এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়নি।”
অডিট রিপোর্টে আরও বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে যে, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি এবং কার্যাদেশ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এ কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব এবং সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া, ঢাকার ধানমন্ডি ও উত্তরায় সম্পদ এবং রাজবাড়ীর ৮ তলা ভবনের বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে এসব সম্পদ কেনা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রশাসনিক তদারকির অভাবে ঠিকাদারি কার্যক্রম এবং অর্থ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এতে জনস্বার্থের ক্ষতি এবং সম্ভাব্য অর্থের অপচয় ঘটেছে।
এছাড়া, স্থানীয় কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের সাক্ষাৎকারে জানা গেছে, ই/এম বিভাগ-৬ এবং ই/এম বিভাগ-৮-এ ঠিকাদারি কার্যক্রমের জন্য কার্যাদেশ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না। কিছু কার্যাদেশ দ্রুত অনুমোদন পাওয়ার ফলে যথাযথ তদারকি ও যাচাই-বাছাই হয়নি।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, “বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদারকি এবং অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী কার্যাদেশের প্রক্রিয়া নিয়মবহির্ভূত ছিল। এতে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
এই অভিযোগগুলোর কারণে, স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদন্ত এবং নজরদারি দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়গুলো যাচাই করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
সংক্ষেপে বলা যায়, ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আলমগীর খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু হলো:
* অবৈধ সম্পদ অর্জন (ধানমন্ডি, উত্তরার বাড়ি, রাজবাড়ীর ৮ তলা ভবন, একাধিক ফ্ল্যাট)
* ঠিকাদারি কার্যাদেশ এবং বিল পরিশোধে স্বচ্ছতার অভাব
* গাড়ি চালকের অতিরিক্ত বেতন
* চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এবং অর্থের অপচয়
* অডিট রিপোর্টে উঠে আসা অন্যান্য প্রশাসনিক ত্রুটি
এছাড়া, স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এই অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং যাচাই ও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জনস্বার্থ রক্ষা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছে। এই প্রক্রিয়াগুলোতে তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

 

 

সর্বশেষ  গুরুত্বপূর্ণ  সব  সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের  ফেসবুক পেইজে  লাইক  দিয়ে  অ্যাকটিভ  থাকুন।  ভিজিট করুন : http://www.etihad.news

অনলাইন  নিউজ পোর্টাল  ইত্তেহাদ নিউজে  লিখতে  পারেন  আপনিও। লেখার বিষয়  ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন  [email protected] ঠিকানায় ।

সংবাদটি শেয়ার করুন....
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক :

ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক :

About Author

etihad news is one of the famous Bangla news portals published from Abudhabi-UAE. It has begun with a commitment to fearless, investigative, informative, and independent journalism. This online portal has started to provide real-time news updates with maximum use of Smart Technology.