ইত্তেহাদ স্পেশাল

একটি কফিনের পাশে ছিল গোটা বাংলাদেশ

image 1767359511 xrbu2EwBtuVFqFlYXGjTzI7YGOqxXJuaDq1bPvXP
১০৯
print news

একটি কফিনের পাশে ছিল গোটা বাংলাদেশ। এই কফিনে ছিলেন দেশদরদি খালেদা জিয়া। অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে দেশের মানুষ শেষবিদায় জানিয়েছেন।

দীর্ঘ সংগ্রাম, কারাবরণ আর অসুস্থতার গ্লানি জয় করে নন্দিত নেত্রী খালেদা জিয়া চলে গেছেন চিরস্থায়ী ঠিকানায়। লাখ লাখ মানুষের গগণবিদারী ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি আর অশ্রুসিক্ত দোয়ার মধ্য দিয়ে এক ঐতিহাসিক অধ্যায় এবং একটি রাজনৈতিক কালের সমাপ্তি ঘটল। গতকাল কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিংবা একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেত্রীকেই বিদায় জানানো হয়নি, বরং চার দশকের বেশি সময় ধরে কোটি মানুষের আস্থায় যে বাতিঘরটি জ্বলছিল, তার বিদায় হয়েছে অগণিত মানুষের হৃদয়ছোঁয়া ভালোবাসায়।

তার জন্য ঢাকার আকাশে গতকাল ছিল বিষাদের ধূসর মেঘ, আর রাজপথে মানুষের অন্তহীন শোকের সমুদ্র। যে নেত্রীর একটি ডাক শোনার জন্য টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত জনতা উন্মুখ হয়ে থাকত, সেই আপসহীন খালেদা জিয়ার কণ্ঠস্বর আজ চিরদিনের জন্য থেমে গেছে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের বিশাল চত্বর ছাপিয়ে জনস্রোত যখন মাইলের পর মাইল বিস্তৃত হচ্ছিল, তখন প্রতিটি চোখেই ছিল নোনা পানি আর হৃদয়ে হারানোর হাহাকার।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজা সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই এক শোকবিধুর পরিবেশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় খালেদা জিয়াকে। এই বিদায়বেলায় তার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে এ সময় তৈরি হয়েছিল এক হৃদয়বিদারক ও আবেগঘন পরিবেশ। লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসন থেকে ফিরে কয়েকদিনের মাথায় মাকে হারানো তারেক রহমান গতকাল অশ্রুসিক্ত নয়নে দাফনকার্যে অংশ নেন। দাফনের সময় তিনি নিজেই কবরে নেমে মায়ের লাশ পরম মমতায় শায়িত করেন। মায়ের কবরে মাটি দেওয়ার সময় তারেক রহমানের স্তব্ধ ও শোকাতুর চাহনি উপস্থিত লাখো মানুষের হৃদয়ে এক গভীর বেদনার ছাপ ফেলে। এর আগে জানাজার শুরুতে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় তারেক রহমান যখন বলেন, আমার মায়ের কাছে কারো কোনো ঋণ পাওনা থাকলে আমাকে জানাবেন এবং আমার মায়ের কথায় বা অন্য কোনোভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তাকে ক্ষমা করে দেবেন, তখন উপস্থিত জনতার পক্ষ থেকে অনেকেই বলতে থাকে না, না খালেদা জিয়া কাউকে কষ্ট দেননি। তিনি এমন মানুষ নন। দেশ, দেশের মাটি ও মানুষকে তিনি ভালোবেসে গেছেন।

ঢাকায় তিনটি বড় জানাজায় অংশ নেওয়ার আমার সৌভাগ্য হয়। ১৯৮১ সালের ২ জুন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজায় অংশ নিয়েছিলাম। এরপর গত ১৮ ডিসেম্বর অংশ নিই জুলাই বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদির জানাজায়। আর গত বুধবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায়। আমার কাছে মনে হয়েছে খালেদা জিয়ার জানাজা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ইতিহাসের বৃহত্তম জানাজায় পরিণত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বলা হয়ে থাকে, জিয়াউর রহমানের জানাজায় ২০ লাখ মানুষ হয়েছিল। অনেক বিশ্লেষকই বলেছেন, খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের উপস্থিতি জিয়াউর রহমানের জানাজার সমাগমকেও ছাড়িয়ে গেছে। ভিড় এতটাই ছিল যে, সংসদ ভবন এলাকা থেকে শুরু করে বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, শ্যামলী, ধানমন্ডি সড়ক পর্যন্ত বেশ কয়েক কিলোমিটার এলাকা মহাসমুদ্রে পরিণত হয়। খালেদা জিয়ার এই শেষ বিদায়ে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ভোর থেকে জড়ো হতে শুরু করেন। এটা ছিল সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। চারদিক থেকে মানুষ যেভাবে আসতে থাকে, মনে হলো রাজধানীতে যেন জনতার ঢল নেমেছে।
খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতি জনগণের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এই জানাজা। ত্যাগ, সংগ্রাম ও ধৈর্যের যে অনুপম দৃষ্টান্ত খালেদা জিয়া দেখিয়েছেন, জনগণ এই সম্মান ও ভালোবাসার মাধ্যমে এর মূল্যই তাকে দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার জন্য এ সম্মান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই নির্ধারিত ছিল।

দীর্ঘদিনের অসুস্থতা এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের পর খালেদা জিয়ার এ প্রস্থান দেশবাসীর মাঝে গভীর আবেগ ও শূন্যতা তৈরি করেছে।

 

 

সর্বশেষ  গুরুত্বপূর্ণ  সব  সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের  ফেসবুক পেইজে  লাইক  দিয়ে  অ্যাকটিভ  থাকুন।  ভিজিট করুন : http://www.etihad.news

অনলাইন  নিউজ পোর্টাল  ইত্তেহাদ নিউজে  লিখতে  পারেন  আপনিও। লেখার বিষয়  ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন  [email protected] ঠিকানায় ।

সংবাদটি শেয়ার করুন....
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক :

ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক :

About Author

etihad news is one of the famous Bangla news portals published from Abudhabi-UAE. It has begun with a commitment to fearless, investigative, informative, and independent journalism. This online portal has started to provide real-time news updates with maximum use of Smart Technology.