অনুসন্ধানী সংবাদ

সামিটের আজিজ খান সিঙ্গাপুরের ৫০ ধনীর মধ্যে ৪১তম : ফোর্বস

aziz khan
১২৫
print news

সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ ধনীর তালিকায় আবারও নাম উঠেছে বাংলাদেশের মুহাম্মদ আজিজ খানের। তিনি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি সামিটের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। গতকাল বুধবার মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ ধনীর তালিকা প্রকাশ করে।

এ তালিকায় আজিজ খান রয়েছেন ৪২ নম্বরে। তাঁর সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ৯৫ টাকা ধরে হিসাব করলে বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা।

২০১৯ সালের পর থেকে আজিজ খানের সম্পদের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তাতেই তিনি এ বছর বিলিয়ন ডলারের ধনীর ক্লাবে স্থান করে নিয়েছেন।

ফোর্বসের হিসাবে এবারই প্রথম আজিজ খান সিঙ্গাপুরের বিলিয়ন ডলারের (১ বিলিয়নে ১০০ কোটি) সম্পদশালী ব্যক্তিদের ক্লাবে ঢুকলেন। গত বছর তথা ২০২১ সালে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল ৯৯ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১৯ সালের পর থেকে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তাতেই তিনি এ বছর বিলিয়ন ডলারের ধনীর ক্লাবে স্থান করে নিয়েছেন।

সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত। এ কারণে বাংলাদেশে ব্যবসা করলেও যেহেতু সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত, তাই এটির সম্পদের হিসাব করা হয় সিঙ্গাপুরে।

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহাম্মদ আজিজ খান সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ ধনীর তালিকায় প্রথম স্থান পান ২০১৮ সালে। ওই বছর তিনি এ তালিকায় ৩৪ নম্বরে ছিলেন। ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি মার্কিন ডলার।

ফোর্বস জানিয়েছে, ২০১৯ সালে মুহাম্মদ আজিজ খান জাপানি প্রতিষ্ঠান জেরার কাছে সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের ২২ শতাংশ শেয়ার ৩৩ কোটি মার্কিন ডলারে বিক্রি করে দেন। ফলে ২০১৯ সালে তাঁর সম্পদের পরিমাণ কমে নেমে আসে ৮৫ কোটি ডলারে। এর পর থেকে আবার তাঁর সম্পদের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে।

সামিটের যাত্রা শুরু হয় ট্রেডিং কোম্পানি হিসেবে। পরে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসায় এসে ভালো করে প্রতিষ্ঠানটি।

ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৩ বছর বয়সী আজিজ খান এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সিঙ্গাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, বন্দর, ফাইবার অপটিকস, অবকাঠামো খাতের ব্যবসা আছে সামিট গ্রুপের। সামিটের অধীন এ দেশে বিদ্যুৎ খাতের যত ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোর মালিকানায় বা হোল্ডিং কোম্পানি সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল। আর সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত। এ কারণে বাংলাদেশে ব্যবসা করলেও যেহেতু সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত, তাই এটির সম্পদের হিসাব করা হয় সিঙ্গাপুরে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহাম্মদ আজিজ খান সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ ধনীর তালিকায় প্রথম স্থান পান ২০১৮ সালে। ওই বছর তিনি এ তালিকায় ৩৪ নম্বরে ছিলেন।

সামিট গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফোর্বস মুহাম্মদ আজিজ খানের যে সম্পদের হিসাব দিয়েছে, সেটি শুধু বিদ্যুৎ খাতের ব্যবসার সম্পদের হিসাব। এর বাইরে সামিটের অন্যান্য খাতের ব্যবসার সম্পদের হিসাব সেখানে যুক্ত হয়নি।
জানা যায়, সামিটের যাত্রা শুরু হয় ট্রেডিং কোম্পানি হিসেবে। পরে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসায় এসে ভালো করে প্রতিষ্ঠানটি। বিদ্যুৎ খাতের ব্যবসায় তাদের দ্রুত অগ্রগতি হয়। ১৯৯৮ সালে সামিটের প্রথম বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন....
ইত্তেহাদ ডেস্ক :

ইত্তেহাদ ডেস্ক :

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *