তুরাগতীরে লাখ লাখ মুসল্লির পদভারে মুখরিত ইজতেমা

গাজীপুর প্রতিনিধি : ইজতেমা মাঠ উপচে আশপাশের খোলা জায়গা নামাজের সময় পরিপূর্ণ হয়ে যায়ইজতেমা মাঠ উপচে আশপাশের খোলা জায়গা নামাজের সময় পরিপূর্ণ হয়ে যায় দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগতীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই জুমার নামাজে ইমামতি করেন মওলানা জুবায়ের সাহের। ইজতেমায় যোগ দেওয়া মুসল্লি ছাড়াও জুমার নামাজে ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার মুসল্লিরা অংশ নেন। ভোর থেকেই আশপাশের এলাকা থেকে ইজতেমা মাঠের দিকে মানুষের ঢল নামে। দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমা মাঠ উপচে আশপাশের খোলা জায়গা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।ইজতেমা ময়দানের ১৬০ একর জায়গা ছাড়িয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, কামারপড়া রোড, তুরাগের দুই পার, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়। টঙ্গীর বিভিন্ন উঁচু ভবনের ছাদে থেকেও মুসল্লিরা জুমার নামাজে শরিক হন। মাঠে স্থান না পেয়ে মুসল্লিরা মহাসড়ক ও অলি-গলিসহ যে যেখানে স্থান পেয়েছেন জুমার নামাজে অংশ নেন। এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দেশের লাখ লাখ মুসল্লি ছাড়াও ৪৭টি দেশের ২ হাজারের অধিক মুসল্লি নামাজে অংশ নেন।নামাজ শেষে ইজতেমায় আগত মুসল্লিরা ময়দানে অবস্থান নেন। আশপাশ থেকে আসা মুসল্লিরা পায়ে হেঁটে ময়দান থেকে চলে যান। জুমার নামাজে অংশ নিতে কয়েকটি সড়ক ও ফাঁকা জায়গায় দু-তিন ঘণ্টা আগে থেকেই মুসল্লিরা বসে যান।
জানা যায়, বিশ্ব ইজতেমার মূলপ্যান্ডেলের ভেতরে মোট ১০৪টি খিত্তা রয়েছে। ১৪টি খিত্তা সংরক্ষণে রেখে বাকি খিত্তাগুলোতে সারা দেশের মুসল্লিরা অবস্থান করছেন। জেলা ভিত্তিক খিত্তা থাকায় যারা আসেননি তাদের জন্য জায়গা সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। যেসকল জামাত ইতিমধ্যে নিবন্ধিত হয়েছে সেসব জামাতের জন্য খিত্তায় জায়গা সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে অনিবন্ধিত ও নতুন জামাতগুলো খিত্তায় জায়গা পাচ্ছে না। জামাত বেঁধে আসার কারণে তারা মূলময়দানের বাইরে রাস্তার পাশে ফুটপাতে তাবু ঘেরে অবস্থান শুরু করেছেন।টঙ্গী ইজতেমার প্রধান ফটকের সামনে টঙ্গী- কামারপাড়া সড়কের মিলগেট এলাকায় রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য তাবু টাঙানো হচ্ছে।টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ব তাবলীগ জামাতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জমায়েত বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। ইজতেমায় বিশ্বের ৪৭টি দেশ থেকে দুই হাজার বিদেশি মেহমান অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক।শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিদেশি খিত্তার নিরাপত্তায় স্থাপিত বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।মন্ত্রী বলেন, বৃষ্টি নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। এখন বৃষ্টি না থাকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি। ইজতেমায় কোনো ধরণের সমস্যা নেই। আশা করি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে ইজতেমা সম্পন্ন হবে।রোববার আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে এই পর্ব শেষ হবে। এছাড়া ৯ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে এর দ্বিতীয় পর্ব।
মৌসুমি ব্যবসা, এক বদনা অজুর পানি ১০ টাকা
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় জুমার নামাজের আগে ময়দানের বাইরে যারা ছিলেন, তাদের কাছে প্রতি বদনা পানি দশ টাকায় বিক্রি করেছেন কিছু ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী।শুক্রবার জুমার নামাজের আগে ইজতেমা ময়দানের আশপাশে এমন চিত্র দেখা গেছে।জুমার নামাজ আদায়ের জন্য জমায়েত হয়েছিলেন লাখ লাখ মানুষ; যাদের অনেকেই ইজতেমার মূল ময়দানে প্রবেশ করতে পারেননি। এ সময় অজুর পানি সংকট দেখা দিলে অনেকেই মিনারেল ওয়াটারের বোতল কেনেন।কিছু প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হলেও ‘ঝামেলা এড়াতে’ অনেকেই ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এক বদনা পানি দশ টাকা দিয়ে কিনেছেন।তবে শুধু পানি বিক্রি হচ্ছে দশ টাকা দরে। অজুর পর বদনাগুলো আবার ফেরত দিতে হচ্ছে বলে ইজতেমায় আসা লোকজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্টেশন রোড এলাকায় দশ টাকা দরে বদনার পানি বিক্রি করছিলেন মারফত আলী নামে একজন।তিনি বলেন, “বছরের অন্য সময় আমি রিকশা চালাই। এই সময়টা টঙ্গী এলাকায় রিকশা চলাচল বন্ধ থাকে। তাই ইজতেমায় আসা লোকজনদের অজুর পানি সরবরাহ্সহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আয় করি।পাশেই একটি পানির কল থেকে খোলা পানি এনে বোতলে ভরে বিক্রি করছিলেন সামশুল আলম নামে একজন।তিনি বলেন, “যারা ময়দানে ঢুকতে পারে নাই, তাদের কাছে খোলা পানি দুই লিটারের বোতল ভরে ২০ টাকা দরে বিক্রি করছি।তবে ভিন্ন চিত্রও দেখা গেছে কামারপাড়া সড়কে একটি কারখানার ফটকের সামনে। প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তাকর্মী ফেরদৌস বালতিতে করে বিনামূল্যে পানি সরবরাহ করছিলেন।পানি টেনে আনা পরিশ্রমের কাজ হলেও এ কাজে তৃপ্তি ও আনন্দ পান জানিয়ে ফেরদৌস বলেন, গত দুই বছর ধরে তিনি ইজতেমায় অজুর পানি সরববাহ করছেন; এ জন্য তিনি কোনো টাকা নেন না। পানি সরবারহ করতে দুটি নতুন বালতি এবং পাঁচটি মগও কিনেছেন।এছাড়া জায়নামাজের জন্য পলিথিন শিট, ফয়েল পেপার, কাগজ ও নামাজ পড়ার উপযোগী জিনিসগুলো বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকা দরে।শুক্রবার শুরু হওয়া ইজতেমার প্রথম পর্ব আগামী রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে। ১১ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।ইজতেমার ময়দানে এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
* সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news



