বাংলাদেশ বরিশাল

নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও বরিশালে সক্রিয় আ.লীগ–ছাত্রলীগ: গোপন কর্মসূচি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই প্রমাণ

1000205762 copy 1
১২৩
print news

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্যেও বরিশালে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক তৎপরতা থেমে নেই। প্রকাশ্যে নয়, বরং রাতের আঁধারে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার করে গোপনে একের পর এক কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে নিজেদের সক্রিয়তার জানান দিচ্ছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ব্যানারে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতারা কার্যক্রমের স্বীকৃতি দিচ্ছেন।

বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন খান তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে গভীর রাতে নগরীর বেলস পার্ক সংলগ্ন শহীদ বেদিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি স্থাপন করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেখা যায় কয়েকজন যুবককে। ভিডিওতে অংশগ্রহণকারীদের সবাই মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় ছিল। ভিডিওটির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়—
‘১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের কর্মীবৃন্দ।’

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, এক যুবক রাজিব হোসেন খানের ছবি সংবলিত একটি ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। ব্যানারে রাজনৈতিক স্লোগানও লেখা ছিল।

একই দিন রাজিব হোসেন খানের আরেকটি পোস্টে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির সামনে মুখে মাস্ক পরা কয়েকজন নারী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। ফুলের ওপর লেখা—
‘১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ, বরিশাল।’
এই পোস্টেও ক্যাপশনে ‘১৬ ডিসেম্বর ২০২৫’ উল্লেখ করে মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে শ্রদ্ধা নিবেদনের দাবি করা হয়।

এছাড়াও রাজিব হোসেন খানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত রহমান অনিকের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি নিজে মুখে মাস্ক পরে শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন। ভিডিওতে তাকে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর জন্য দোয়া চাইতে শোনা যায়। ক্যাপশনে লেখা ছিল—
‘১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ।’

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, এর আগেও নিষিদ্ধ ঘোষিত এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও মশাল মিছিলসহ একাধিক সহিংস ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের ব্যানারে কর্মসূচি পালন, প্রচারণা চালানো কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রচার করা গুরুতর অপরাধ। তারা মনে করেন, এসব ভিডিও ও ছবিই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ।

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,
“ইতোমধ্যে বরিশালে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তারা বিভিন্ন কৌশলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে গোপনে কর্মসূচি পালন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই একাধিক টিমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হবে।”

প্রশ্ন উঠেছে—নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও কীভাবে একটি সংগঠন এত সহজে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ করছে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান এই তৎপরতা কতটা ঠেকাতে পারবে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন....
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক :

ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক :

About Author

etihad news is one of the famous Bangla news portals published from Abudhabi-UAE. It has begun with a commitment to fearless, investigative, informative, and independent journalism. This online portal has started to provide real-time news updates with maximum use of Smart Technology.