ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্কদুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে উল্লেখযোগ্য দুর্নীতির অভিযোগে আজিজ আহমেদকে চিহ্নিত করার কথা জানান। এর ফলে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

আজিজ আহমেদ ২০১৮ সালের ২৫ জুন থেকে ২০২১ সালের ২৪ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তাঁর মার্কিন ভিসা বাতিলের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। তবে সে সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষযয় কোনো মন্তব্য করেনি। আজিজ আহমেদও তার মার্কিন ভিসা বাতিলের তথ্য নাকচ করেছিলেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, জেনারেল আজিজ উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার কর্মকাণ্ড সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করেছে। তার কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে হেয় করতেও ভূমিকা রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, আজিজ আহমেদ তার ভাইয়ের ফৌজদারি অপরাধের জবাবদিহি এড়াতে সহযোগিতা করেছেন। এর মধ্য দিয়ে সরকারি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তিনি উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, এই ব্যবস্থা গ্রহণ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং আইনের শাসনকে শক্তিশালী করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারি পরিষেবাগুলোকে আরো স্বচ্ছ এবং সাশ্রয়ী, ব্যবসায়িক ও নিয়ন্ত্রক পরিবেশ উন্নতকরণ এবং অর্থ পাচার এবং অন্যান্য আর্থিক অপরাধের তদন্ত ও বিচারে সক্ষমতা তৈরিতে সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।

Aziz

বিবৃতিতে ম্যাথু মিলার বলেন, জনগণের ক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন আজিজ আহমেদ। একইসঙ্গে কোনোধরনের জবাবদিহিতা ছাড়াই নিজের ভাইকে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। নিজের ভাইকে সঙ্গে নিয়ে অন্যায়ভাবে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন চুক্তির কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন এবং ঘুষ নিয়েছেন। আর এটা করেছেন সেনাপ্রধানের পদবী ব্যবহার করে।

মিলার জানান, এই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং আইনের শাসন শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুর্নব্যক্ত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে দুর্নীতি মুক্ত রাখার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। সরকারিকে সেবাকে অধিকতর স্বচ্ছ, সবার সামর্থ্যরে মধ্যে রাখা, ব্যবসা এবং এর পরিবেশের উন্নতি, বিনিয়োগের সামর্থ্য বাড়ানো, টাকা পাচার এবং আর্থিক অনিয়মের বিচার করা- এসকল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।  স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট, ফরেন অপারেশনস এবং রিলেটেড পোগ্রামস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্ট এর ৭০৩১ (সি) ধারায় এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

 

* সর্বশেষ  গুরুত্বপূর্ণ  সব  সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের  ফেসবুক পেইজে  লাইক  দিয়ে  অ্যাকটিভ  থাকুন।  ভিজিট করুন : http://www.etihad.news

* অনলাইন  নিউজ পোর্টাল  ইত্তেহাদ নিউজে  লিখতে  পারেন  আপনিও। লেখার বিষয়  ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন  [email protected] ঠিকানায়