সাইফুল ইসলাম, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নিমদী লঞ্চঘাট এলাকায় শিকারির কাছ থেকে উদ্ধারের পর অর্ধশতাধিক পাখি অবমুক্ত করা হয়েছে। গতকাল স্থানীয় ‘সেভ দি বার্ড এ্যান্ড বি’ নামে স্থানীয় পরিবেশ রক্ষা অন্দোলনের কর্মীরা তেঁতুলিয়া নদী পাড়ে পাখিগুলো অবমুক্ত করে। স্থানীয় কয়েকজন শিশু-কিশোর জানায়, সকালে উপজেলার কালাইয়া বন্দর এলাকার মিজানুর রহমান (৪৮) ও জামাল (৩৮) নামে দুই শিকারি তেঁতুলিয়া নদীর জেগে ওঠা বিভিন্ন চরাভূমিতে জাল পেতে পাখিগুলো শিকার করে নৌকাযোগে বিক্রির উদ্দেশে নিয়ে আসে। এ সময় খবর পেয়ে সেভ দি বার্ড এ্যান্ড বি নামে স্থানীয় পরিবেশ আন্দোলনের কয়েকজন কর্মী ও উৎসুক লোকজন ছুটে যায়। এ সময় বিক্রির জন্য দাম হাকালে বাধ সাধেন সেভ দি বার্ড এ্যান্ড বি’র কর্মীরা। এরপর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ওই শিকারীদের বুঝিয়ে রাজি করে অবমুক্ত করা হয় পাখিগুলো। পাখি অবমুক্ত করায় দারুন খুসি ‘সেভ দি বার্ড এ্যান্ড বি’র ক্ষুদে সদস্য স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী বাছিরা বিনতে বশার। এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘পাখির ডাকে আসে সকাল-দুপুর ও সাজের বেলা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এরা আমাদের সবুজ প্রকৃতির আরো সৌন্দর্য বাড়ায়। মুগ্ধ করে।’
পরিবেশবাদি সংগঠনটির সদস্য নিজাম শিকদার, ওমর ফারুক ও রোকনুজ্জামান জানায়, করোনার অতিমারি কালে উপকূলীয় প্রাণ-বৈচিত্র্যে ইতিবাচক পরিবর্তণ যে কারো নজরে এসেছে। শব্দ, বায়ূ ও পানি দুষণসহ বিভিন্ন ধরণের রেডিয়েশন কমে গিয়ে এই পরিবর্তন আকাশে-বাতাসে, জলে-স্থলে সর্বত্রই উপলব্দি করা গেছে। কিন্তু পরিযায়ি চা-পাখির মতো, টিটি, বক, ডাহুক, জলমোরগ, কোরা, ঘুঘুসহ অনেক পাখিই এ সময় ডিম ফুটিয়ে তাদের ছানাগুলোকে নিয়ে আহারে নেমে কখনো কখনো নির্দয় শিকারীর কবলে জীবন দিচ্ছে।
রোকনুজ্জামান বলেন, ‘তথাকথিত নগরায়ন বন্ধ করে গ্রাম ও চরাঞ্চলের বনজঙ্গল রক্ষাসহ পাখপাখালি ও বন্যপ্রাণীদের প্রতি সদয় আচরণ এখন সময়ের দাবি।’ এ ব্যাপারে বন্যপ্রাণী ব্যাবস্থাপনা প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনা অঞ্চলের মোহাম্মদ মফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘জলবায়ূ পরিবর্তনের বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় হুমকীতে থাকা উপকূলীয় বিভিন্ন বন্যপ্রাণীসহ চরাঞ্চলের পাখপাখালি করোনার লকডাউনে স্বাচ্ছন্দ ফিরে পেয়েছিল। এদের খাদ্যাভ্যাস, চলাচল, প্রজননসহ জীবন আচরণেও পরিবর্তণ আসে। পরিযায়ি ওই পাখিগুলোর মতো অবলা সব পাখপাখালি ও বন্য প্রাণীদের পূর্ণাঙ্গ বেড়ে ওঠা থেকে স্বাচ্ছন্দ জীবন-আচরণে সবার সহানুভূতি থাকা উচিত।