শীর্ষনিউজ: প্রায় দেড় যুগ পর প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। তাঁর এই ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় বিএনপির সকল স্তরের নেতা-কর্মীসহ পুরো বাংলাদেশ। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে তারেক রহমানের দেশে ফেরা রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সর্বমহল।
এদিকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় গণসংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, দেশের গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংবর্ধনা হবে এটি। সমাগম ঘটবে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে অনুমতি নিয়ে প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সরেজমিনে ৩০০ ফিটের অনুষ্ঠানস্থলে ঘুরে দেখা গেছে, আজ (২৪ ডিসেম্বর) বুধবার থেকেই বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত হয়েছেন। মঞ্চের আশপাশে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। সারা দেশ থেকে আসা অনেক নেতাকর্মী আজকেই এখানে সমবেত হতে শুরু করবেন বলে জানা গেছে। কথা হয় যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আশরাফুল আলম রানার সঙ্গে। শীর্ষনিউজ ডটকমকে তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান ফিরছেন লন্ডন থেকে। ছোট্ট এই রাজনৈতিক জীবনে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর নেই। সেই লন্ডনে বসে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। নেতার নির্দেশে জীবনবাজি রেখে আন্দোলন করেছি, জেল খেটেছি। এই প্রথম তাকে সামনাসামনি দেখার সুযোগ এসেছে। তাই আজ রাত থেকেই মঞ্চের আশপাশে অবস্থান করব।
সংবর্ধনায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। আজ বুধবার সারাদেশের অসংখ্য নেতা-কর্মী রাজধানীতে চলে এসেছেন। যার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর আবাসিক হোটেলগুলোতে। বেশিরভাগ হোটেলের সিট বুকিং হয়ে গেছে। এমনকি দুই জনের রুমে ৫-৬ জন থাকার মতো ঘটনাও ঘটছে। হোটেল রমনার ম্যানেজার জানিয়েছেন, আমাদের হোটেলের প্রত্যেকটি রুম ২-৩দিন আগেই বুকিং হয়ে গেছে। এমন কি অনেক রুমে গাদাগাদি করে থাকছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। হাজার হাজার নেতাকর্মী এসে উঠেছেন ঢাকায় বসবাসকারী স্বজনদের বাসায়। তবে ঢাকা ও আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া বিএনপি ঘোষিত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থেকে কর্মসূচি সফল করবেন। বৃহস্পতিবার সারা দেশের ১০টি লাইনে চলবে স্পেশাল ট্রেন। কক্সবাজার থেকে পঞ্চগড়, খুলনা থেকে রাজশাহীসহ দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্ত থেকে ঢাকামুখী হচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। রেলওয়ে জানিয়েছে, স্পেশাল ট্রেন ও অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের মাধ্যমে আনুমানিক ৩৬ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হবে। তবে নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে।
জানা গেছে, তারেক রহমানের আগমনে বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফুটের গণসংবর্ধনা স্থান এবং গুলশান পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, তারেক রহমানের দেশে আসার ক্ষেত্রে দল যে ধরনের সহযোগিতা চাচ্ছে তা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
তারেক রহমানের সংবর্ধনা কমিটির সদস্য সচিব ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, সারা দেশের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসী তারেক রহমানকে বরণে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিহাস সৃষ্টি হবে বৃহস্পতিবারের সংবর্ধনায়। জনসমুদ্রে রূপ নিবে ঢাকা। তিনি বলেন, দিনটি আমরা স্মরণীয় করে রাখতে চাই। আশা করি ঢাকায় অতীতের যেকোনো প্রত্যাবর্তনের রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাবে।
সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news
* অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইত্তেহাদ নিউজে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায় ।