বরিশাল অফিস :   মেঘনার বুক জুড়ে এখন উত্তেজনা। একপাশে মা ইলিশ বাঁচানোর সরকারি অভিযান, অন্যপাশে জীবিকার টানে নদীতে জেলেরা। জে‌লে‌দের ইট-পাটকেলের জবাব দিতে প্রশাসন অভিযা‌নে জলকামান ব‌্যবহার কর‌ছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা বারবার বলেছি, এটা কারও বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়।
নদীর মা ইলিশ বাঁচানোর অভিযান। কিন্তু কিছু জেলে ইচ্ছে করে হামলা চালাচ্ছে। তাই আত্মরক্ষার জন্য এবার জলকামান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইট-পাটকেল ও লাঠিসোটা হাতে জেলেদের হামলা ঠেকাতে এবার অভিযানে অংশ নেবে জলকামান সংবলিত স্পিডবোট।এই বোট থেকে উচ্চচাপে পানি ছুড়ে জেলেদের সরিয়ে দেওয়া হবে। কাউকে আহত না করেই নিয়ন্ত্রণ আনার উদ্দেশ্যেই এই জলকামান।

মেঘনার পাড়ের মানুষ বলছেন, গত কয়েক বছরে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি। একসময় অভিযান মানে ছিল ট্রলার জব্দ আর জাল পুড়িয়ে দেওয়া।
এখন সেখানে ইট-পাটকেল উড়ছে, আর জবাবে আসছে জলকামান।

মেঘনা তী‌রের হিজলার গুয়াবা‌ড়িয়ার জেলে রফিক মোল্লা, আরিফ হো‌সেন, কুদ্দুস খান ক্ষোভের সুরে বলেন, আমরা জানি নদীতে নামা নিষেধ, কিন্তু পেটে ভাত না থাকলে কী করব? এখন আবার জলকামান ছোড়া হবে, এটা তো যুদ্ধের মতো হয়ে গেল।হিজলা ফায়ার‌ স্টেশ‌নের সাব অফিসার আওলাদ হো‌সেন ব‌লেন, স্টেশ‌নের ৮ জন সদস‌্য এক‌টি স্পিট‌বো‌টের দা‌য়িত্ব পালন ক‌রে‌ছেন। এই জলকামা‌নের গ‌তি প্রায় ১০০ মিটার।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ বলেন, অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকাররোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।আমাদের কর্মীরা প্রায়ই জেলেদের হামলার মুখে পড়েন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসের জলকামান ব্যবহার শুরু হয়েছে। এতে রক্তপাত বা সরাসরি সংঘর্ষ ছাড়াই জেলেদের ছত্রভঙ্গ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মৎস্য কর্মকর্তার দাবি, জলকামান কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র নয়, বরং সহিংসতা ঠেকানোর শান্তিপূর্ণ উপায়।বাংলাদেশ মৎস্য শ্রমিক ফেডারেশন ও জাতীয় মৎস্য শ্রমিক অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন বলেন, প্রতিবছর এই সম‌য়ে ২২ দিনব্যাপী মা ইলিশ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। এই সময়টিতে নদীতে ডিম ছাড়ে ইলিশ। তাই সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী নদীতে মাছ ধরতে নামা যাবে না, জাল ফেলা যাবে না, এমনকি ইলিশ বিক্রিও নিষিদ্ধ। তবে বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। দক্ষিণাঞ্চলের বহু জেলে পরিবার এই মৌসুমে কার্যত বেকার হয়ে পড়ে। জে‌লের তা‌লিকায় থাকা এক লাখ জে‌লে সরকা‌রি সহায়তার আওতায় আসে‌নি। পাশাপা‌শি সরকারি সহায়তার তালিকায় নাম না থাকায় অনেকে বাধ্য হয় নদীতে নামছেন। সেখান থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম বলছেন, আমরা চাই না কেউ আহত হোক। তাই বলপ্রয়োগের পরিবর্তে জলকামানই এখন সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও মৎস্য গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রশাসন জল দিয়ে দমন করবে, কিন্তু ক্ষুধার আগুন জলেই কি নিভবে? কেবল কঠোর অভিযান চালালে সংঘাতের মাত্রাই বাড়বে, যদি জেলেদের টিকে থাকার বিকল্প পথ তৈরি না করা হয়।

 

সর্বশেষ  গুরুত্বপূর্ণ  সব  সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের  ফেসবুক পেইজে  লাইক  দিয়ে  অ্যাকটিভ  থাকুন।  ভিজিট করুন : http://www.etihad.news

* অনলাইন  নিউজ পোর্টাল  ইত্তেহাদ নিউজে  লিখতে  পারেন  আপনিও। লেখার বিষয়  ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন  [email protected] ঠিকানায় ।