ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্কইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মিলেছে দুর্ঘটনার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর। তবে প্রেসিডেন্ট রাইসি, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আবদোল্লাহিয়ান ও পূর্ব আজারবাইজানের গভর্নর মালেক রহমাতি কেউই আর বেঁচে নেই।

সোমবার (২০ মে) বিবিসি, রয়টার্সসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে  রোববার (১৯ মে) দেশটির পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের জোলফা এলাকার কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে হেলিকপ্টারটি।

হেলিকপ্টারে রাইসি ছাড়াও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দোল্লাহিয়ান, পূর্ব আজারবাইজানের গভর্নর মালেক রহমতি এবং এই প্রদেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মুখপাত্র আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ আলী আলে-হাশেম ছিলেন।

ইব্রাহিম রাইসি। ইরানের অষ্টম প্রেসিডেন্ট তিনি। একাধারে রাজনীতিবিদ ও বিচারক রাইসি বিশ্ব রাজনীতিতেও অন্যতম প্রভাবশালী নেতাদের একজন। ইব্রাহিম রাইসি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠজন হিসেবেও পরিচিত। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে দেশটির প্রধান বিচারপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার কারণেই দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা কমেছে।

তিন বছর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে ইব্রাহিম রাইসিকে মনে করা হয় একদিন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির উত্তরসূরি হবেন।

ইব্রাহিম রাইসির জন্ম ১৯৬০ সালের ১৪ ডিসেম্বর উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি তেহরানের পার্শ্ববর্তী শহর কারাজের প্রসিকিউটর-জেনারেল নিযুক্ত হন। ১৯৮৯ থাকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তেহরানের প্রসিকিউটর-জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন রাইসি। ২০০৪ সাল থেকে তিনি এক দশক জুডিশিয়াল অথোরিটির উপপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে তাকে বিচার বিভাগের প্রধান নিযুক্ত করেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি।

প্রেসিডেন্ট রাইসি পরবর্তীতে ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ সভার উপচেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে এ সভা। ২০২১ সালে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে তিনি ইরানের অষ্টম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

প্রেসিডেন্টকে বহনকারী ওই হেলিকপ্টারে তার সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ানসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও ছিলেন।

দীর্ঘ দিন ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক চলে আসছে ইরানের। ইব্রাহিম রাইসি ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় প্রতিবেশীদের পাশাপাশি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষভাবে মনোযোগ দিয়েছিলেন।

ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবার।

অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন মোহাম্মদ মোখবার

ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবার (৬৮)। দেশের সংবিধান অনুসারে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুর পরে তিনিই অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স’র

অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসাবে মোখবার সংসদের স্পিকার ও বিচার বিভাগের প্রধানের সাথে তিন সদস্যের কাউন্সিলের অংশ হবেন। এই কাউন্সিল রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর ৫০ দিনের মধ্যে একটি নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করবে।

7ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবার অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, ১৯৫৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া মোহাম্মদ মোখবারকে রাইসির মতো সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হয়। ২০২১ সালে রাইসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট হন মোখবার।

গত বছরের অক্টোবরে ইরানি কর্মকর্তাদের একটি দলের সঙ্গে মোখবার মস্কো সফর করেছিলেন। রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং আরও ড্রোন সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছিলেন। সূত্রগুলো এ তথ্য তখন রয়টার্সকে জানিয়েছিল। প্রতিনিধিদলে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের এক কর্মকর্তাও ছিলেন।

২০১০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মোহাম্মদ মোখবারকে ‘পারমাণবিক বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রমে’ জড়িত থাকার কথা বলে নিষেধাজ্ঞাকারী ব্যক্তি ও সংস্থার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। তবে দুই বছর পর তাকে নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

 

* সর্বশেষ  গুরুত্বপূর্ণ  সব  সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের  ফেসবুক পেইজে  লাইক  দিয়ে  অ্যাকটিভ  থাকুন।  ভিজিট করুন : http://www.etihad.news

* অনলাইন  নিউজ পোর্টাল  ইত্তেহাদ নিউজে  লিখতে  পারেন  আপনিও। লেখার বিষয়  ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন  [email protected] ঠিকানায়