ঢাকা প্রতিনিধি :  ঢাকা-মুলাদি নৌ রুটে যাত্রা শুরু করলো আগুনে পোড়া সেই অভিযান-১০ নামক লঞ্চটি। তবে এবার রুট পরিবর্তন ছাড়াও নৌ-যানটির নামটিও বদলে দেয়া হয়েছে। এটির নতুন নাম দেয়া হয়েছে এম.ভি আল আরাফ-৭।

FB IMG 1712441610255

তবে ঢাকা-বরগুনা রুটে না গিয়ে একই মালিকের অভিযান-৩ নামক লঞ্চের প্রক্সি দিতে ঈদের আগেই ঢাকা-মুলাদি রুটে চলাচল শুরু করেছে। এর আগে গত ৩০ মার্চ রিভার টেষ্ট শেষে ঢাকা সদর ঘাট টার্মিনালে নেয়া হয় লঞ্চের সার্ভে করার জন্য।

২০২১ সালের ২৪ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার রাত ৩ টার দিকে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে দগ্ধ হয়ে নারী-শিশুসহ ৪০ জন মানুষের মৃত্যু ঘটে ও শতাধিক যাত্রী আহত হন।

লঞ্চ পরিচালনায় থাকা শ্রমিকরা আগুন লাগার পর যাত্রীদের না বাঁচিয়ে নিজেরা পালিয়ে গেছেন, যা ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিন্যান্স ১৯৭৬-এর পরিপন্থি।

ইঞ্জিনের ত্রুটি থেকেই এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। লঞ্চটির তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী (বেশি হর্সপাওয়ার সম্পন্ন) এবং ২৪ বছরের পুরোনো দুটি ইঞ্জিন বসানোয় ত্রুটি দেখা দেয়।

ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান পোড়া লঞ্চটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘লঞ্চের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা তেমন কার্যকর ছিল না। এবং যারা দায়িত্বে ছিল, তারা এটা ম্যানেজ করতে পারেনি।

FB IMG 1712441598147

লঞ্চের চারজন মালিক, দুজন ইনচার্জ মাস্টার (চালক), সুকানি (চালকের সহকারী), দুইজন ড্রাইভার (ইঞ্জিন পরিচালনাকারী) ও লঞ্চের গ্রিজারকে (ড্রাইভারের সহকারী) সরাসরি দায়ী করা হয়েছিলো। নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে।

আগুনে ভস্মিভুত হওয়ার পর দুই বছর নারায়ন গঞ্জের হাসনাবাদ নামক স্থানে একটি ডকে লঞ্চটির রুপ পরিবর্তন করা হয়।