ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ও দুর্নীতিবাজ সরকারের সময়ে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরে তথ্য গোপন করে ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে জেলা কোটায় চাকরি নিয়েছেন অনেকে। এছাড়া ভুয়া শিক্ষা সনদ এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করেও চাকরিতে ঢুকেছেন কেউ কেউ। একটি-দু’টি নয়, এ রকমের নিয়োগ অনিয়ম হয়েছে ব্যাপকহারে। এ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এ বিষয়ে জনৈক মাসুদ রানা গত ৯ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মোট ১৫ জন কর্মচারীর ভুয়া ঠিকানা ও ভুয়া সনদে চাকরির তথ্য তুলে ধরা হয় ওই অভিযোগপত্রে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, “বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে উল্লেখিত পদধারীরা ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছেন। যার ফলে প্রকৃতপক্ষে যারা চাকরি পাওয়ার যোগ্য তাদের একজনও জেলা কোটায় চাকরি পাননি! তারা বঞ্চিত হয়েছেন ন্যায্য চাকরি হতে।”
অভিযোগপত্রে যাদের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে এরা হলেন মো. আজিজুল। তিনি নিরাপত্তা প্রহরী পদে চাকরি নিয়েছেন নওগাঁ জেলার কোটায়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার নিজ জেলা চাঁদপুর। গীতা রানী হাওলাদার চাকরি নিয়েছেন গাইবান্ধা জেলা কোটায়, প্রকৃতপক্ষে তার নিজ জেলা পিরোজপুর। মো. মশিউর রহমান নিরাপত্তা প্রহরী পদে চাকরি নিয়েছেন রংপুর জেলা কোটায়, প্রকৃতপক্ষে তার নিজ জেলা নীলফামারী।
সন্তোষ কুমার মালি পদে চাকরিতে প্রবেশ করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা কোটায়, প্রকৃতপক্ষে তার নিজ জেলা টাংগাইল। মো. ফারুক মিয়া অফিস সহায়ক পদে চাকরি নিয়েছেন ঢাকা জেলা কোটায়, প্রকৃতপক্ষে তার নিজ জেলা জামালপুর। আকলিমা খাতুন অফিস সহায়ক পদে চাকরি নিয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলা কোটায়, প্রকৃতপক্ষে তার নিজ জেলা নড়াইল। মৌসুমী খন্দকার উচ্চমান সহকারী পদে চাকরি নিয়েছেন পঞ্চগড় জেলা কোটায়, প্রকৃতপক্ষে তার নিজ জেলা দিনাজপুর। মো আব্দুর রহিম প্রধান সহকারী পদে চাকরিতে ঢুকেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা কোটায়, কিন্তু বাস্তবে তার নিজ জেলা নোয়াখালী। মো. নজরুল ইসলাম সহকারী হিসাব রক্ষক পদে চাকরি নিয়েছেন রংপুর জেলা কোটায়, প্রকৃতপক্ষে তার নিজ জেলা লক্ষীপুর। এ এস এম মাইদুল ইসলাম উচ্চমান সহকারী পদে চাকরিতে ঢুকেছেন নওগাঁ জেলা কোটায়, প্রকৃতপক্ষে তার নিজ জেলা গাইবান্ধা। মো. ফিরোজ করিব প্রধান উচ্চমান সহকারী পদে চাকরিতে প্রবেশ করেছেন কুড়িগ্রাম জেলা কোটায়, প্রকৃতপক্ষে তার নিজ জেলা গাইবান্ধা। মো. ফেরদাউস শেখ অফিস সহায়ক পদে চাকরি নিয়েছেন বাগেরহাটের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দিয়ে। মো মানছুর ভুইয়া অফিস সহায়ক পদে চাকরিতে ঢুকেছেন গাজীপুর জেলার কোটায়, প্রকৃতপক্ষে তার নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গা। মানছুর ভুইয়ার স্কুল সার্টিফিকেটও ভুয়া। তিনি অষ্টম শ্রেণি পাশ সার্টিফিকেট নিয়েছেন আলমডাঙ্গা মাদ্রাসা থেকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেননি।
অভিযোগে বলা হয়, অফিস সহায়ক আকলিমা খাতুন নিয়োগ পেয়েছেন নিরাপত্তা প্রহরী পদে। কিন্তু কীভাবে নিরাপত্তা প্রহরী থেকে অফিস সহায়ক হলেন যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। তাঁকে প্রথমে গোপালগঞ্জ জেলা কোটায় নিয়োগ প্রদান করা হয় পরবর্তীতে কীভাবে নড়াইল-এর বিভাগীয় কোটায় বিভাজন করা হয় তা যাচাই করা একান্ত জরুরি। তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের মদদপুস্ট। ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইন-কানুন এর তোয়াক্কা না করে ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা হয়ে খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কোটায় চাকরি নিয়েছেন। তদন্ত করলেই এসব অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসবে।
অফিস সহায়ক মো. ফেরদাউস শেখ বাগেরহাট জেলার স্থায়ী বাসিন্দা, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়েছেন। কিন্তু তার পিতা মুক্তিযুদ্ধের অনেক আগেই মারা গেছেন। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে চাকরিতে প্রবেশ করেছেন তিনি। অবশ্য, এরজন্য বড় অংকের ঘুষ দিতে হয়েছে তাকে।
পরিচ্ছন্নকর্মী গীতা রানী হাওলাদার এ সংস্থার হিসাবরক্ষক স্বপন কুমার হাওলাদার-এর সহধর্মিণী। হিসাবরক্ষক স্বপন কুমার হাওলাদার- এর স্থায়ী ঠিকানা পিরোজপুর জেলা। তার নিজের জেলাও পিরোজপুরে।
অফিস সহায়ক মানছুর ভুঁইয়া ভুয়া অষ্টম শ্রেণির পাশের সনদ যোগাড় করে চাকরিতে ঢুকেছেন। তিনি গাজীপুরে জমি কিনে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে নিজেকে দেখিয়েছেন। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা মাদ্রাসা থেকে অস্টম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট গ্রহণ করেছেন। কিন্তু সেখানকারঅষ্টম শ্রেণির এবং এর আগে ক্লাসগুলোর খাতাপত্র খতিয়ে দেখলেই আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে। অভিযোগে বলা হয়, এইসব ব্যক্তিদের বাবা-মা, ভাইবোন-এর এনআইডি কার্ড, জমির দলিল, বিদ্যুৎ বিলের কপি, ওয়ারিশ সর্টিফিকেট সংগ্রহ করলেই প্রকৃত ঘটনা উন্মোচিত হবে।
আবাসন পরিদপ্তরে এভাবে ভুয়া ঠিকানা এবং ভুয়া কাগজপত্রে কর্মচারী নিয়োগের সঙ্গে একটি চক্র জড়িত রয়েছে। এদের অন্যতম হলেন প্রধান সহকারী আরিফুর রহমান। এই চক্রটি বিগত সময়ে কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
দুদকে দায়ের করা অভিযোগপত্রে যথাযথ তদন্তের দাবি জানানো হয়। দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে যারা চাকরিতে প্রবেশ করেছেন এইসব কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য অনুরোধ করা হয়।
সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news
* অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইত্তেহাদ নিউজে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায় ।
ইত্তেহাদ নিউজ, এয়ার পোর্ট রোড, আবুধাবী ,সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইমেইল: [email protected], web:www.etihad.news
এম এম রহমান, প্রধান সম্পাদক, ইত্তেহাদ নিউজ, এয়ার পোর্ট রোড, আবুধাবী, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত